বছর প্রায় শেষের পথে। বিগত জানুয়ারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশের বেশি। দামে উল্লম্ফনের এ হার ১৯৭৯ সালের পর অর্থাৎ ৪৬ বছরে সর্বোচ্চ। গত দুই বছরে মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়ে তিন গুণ হয়েছে। এমনকি এর আগে এমন উত্থানের পর দামে বড় ধরনের সংশোধন দেখা গেলেও এবার স্বর্ণের বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্ক নীতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণ ও নতুন ধরনের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন কারণে জেপি মরগ্যান, ব্যাংক অব আমেরিকা (বিওএ) এবং কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান মেটালস ফোকাস ২০২৬ সালে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন ধরনের ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানি টেথার ও বিভিন্ন করপোরেট কোম্পানির ট্রেজারি বিভাগ।
ব্যাংক অব আমেরিকার (বিওএফএ) স্ট্র্যাটেজিস্ট মাইকেল উইডমার বলেন, ‘ভবিষ্যতে দাম আরো বাড়ার প্রত্যাশা ও পোর্টফোলিও বৈচিত্রায়ণের প্রয়োজনে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ কিনছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজেট ঘাটতি, চলতি হিসাব ঘাটতি কমানোর প্রচেষ্টা এবং ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়ার কারণেও স্বর্ণের দাম বাড়ছে।’
মেটালস ফোকাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিলিপ নিউম্যান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ, শুল্ক বিরোধ ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। আগামী বছরও দাম বাড়ার এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’
টানা পঞ্চম বছরের মতো ২০২৬ সালেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ডলার-নির্ভর সম্পদ থেকে সরে এসে রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণে স্বর্ণ কেনা অব্যাহত রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জেপি মরগ্যানের হেড অব বেস ও প্রেশাস মেটালস স্ট্র্যাটেজি গ্রেগরি শিয়ারার বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদার কারণে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে যায়।’
জেপি মরগ্যানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা প্রতি প্রান্তিকে গড়ে ৫৮৫ টনে পৌঁছতে পারে।
২০২২ সালের আগে মোট ব্যবস্থাপিত সম্পদের (এইউএম) মধ্যে স্বর্ণের অংশ ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এখন তা বেড়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মরগ্যান স্ট্যানলি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। জেপি মরগ্যানের হিসাবে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূল্যবান ধাতুটির গড় দাম হতে পারে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬০০ ডলারের ওপর এবং চতুর্থ প্রান্তিকে তা ৫ হাজার ডলার ছাড়াতে পারে।
স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে গতকাল সীমিত করে তুলেছে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি। স্পট মার্কেটে এ সময় মূল্যবান ধাতুটির দাম দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩৩৩ ডলার ১২ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ কম। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম নেমে আসে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩৬৩ ডলার ৬০ সেন্টে। এটিও আগের দিনের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ কম।